জনতা ডেস্ক
আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক হাজার ৬০০ জন। তালেবান সরকারের শরণার্থী মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ১৫৩ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। তবে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল মন্ত্রণালয়টি।
মূলত আফগানিস্তান একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তার মধ্যে আফগানিস্তান অন্যতম। বিভিন্ন স্থান থেকে বেসামরিক নাগরিক আটকে পড়ার খবর আসার পর উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার পাঠায় তালেবান সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বন্যায় অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়েছে পড়েছেন। ভেঙে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থাও। তাছাড়া পানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফগানিস্তান অফিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক। ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। দেশটির প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান কর্মকর্তা হেদায়াতুল্লাহ হামদার্দ জানিয়েছেন, মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি হতে পারে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। বার্তাসংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বাঘলান, তাখার ও বাদাকাশানের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘর ও হেরাত প্রদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশের গ্রাম, সড়ক ও কৃষিজমি কাদাময় হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু মানুষ বাঘলানের হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন। তারা তাদের স্বজনকে খুঁজছেন। এসময় একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের কবর খনন শুরু করা উচিত। তাদের কর্মীরা দাফনের জন্য মৃতদেহ প্রস্তুত করছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
